আপনি একটা চাকরি করছেন যেখানে চমৎকার ক্যারিয়ার মোটামুটি নিশ্চিত। এমন সময় আপনি চাকরির সুযোগ পেলেন অন্য একটা প্রতিষ্ঠানে যেটা বন্ধ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। এই ক্ষেত্রে আপনি নিশ্চয়ই চাকরিটা নেবেন না?

সাইকোথেরাপিস্ট থিও ফারবার কিন্তু ক্যারিয়ারের ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও ‘দ্যা গ্রোভ’ মানসিক হাসপাতালে চাকরির সুযোগ ছাড়তে রাজি না। কিন্তু এই হাসপাতালের ব্যপারে থিও এত আগ্রহী কেন?

ছয় বছর আগের কথা, অ্যালিসিয়া আর গ্যাব্রিয়েল বেরেনসন সুখী দম্পতি হিসাবে পরিচিত ছিল। অ্যালিসিয়া নামকরা চিত্রশিল্পী,গ্যাব্রিয়েল বিখ্যাত ফটোগ্রাফার। কিন্তু এক গ্রীষ্মের সন্ধ্যায় তাদের বাড়ি থেকে গুলির শব্দ শোনা গেল কয়েকবার, স্বাভাবিক ভাবেই এক প্রতিবেশী পুলিশে কল করল। পুলিশ এসে দেখল গ্যাব্রিয়েলের হাত-পা শক্ত করে চেয়ারের সাথে বাঁধা; বেচারার মগজ, রক্ত আর হাড়ের টুকরো ছড়িয়ে আছে মেঝেতে। অ্যালিসিয়া পাথরের মত মুখ করে দাঁড়িয়ে আছে ফায়ার-প্লেসের পাশে, তাকে দেখে মনে হচ্ছিল আশেপাশে কি হচ্ছে সে সম্পর্কে তার কোন ধারণাই নেই, রক্ত গড়াচ্ছে তার কবজির ক্ষত থেকে। তারা অবশ্য অ্যালিসিয়াকে বাঁচাতে পেরেছিল। কিন্তু কেন সে গ্যাবরিয়েলকে খুন করেছিল, কেন আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিল সেই রহস্যের কিনারা কেউ করতে পারেনি। কারণ এই ঘটনার পর থেকে অ্যালিসিয়া কোন কথাই বলেনি , কোন কথাই না। চিত্রশিল্পী অ্যালিসিয়া আর কোন ছবিও আঁকেনি এর পরে, একটা ছবি ছাড়া। ছবিটা একটা self portrait, তাতে একটা শব্দই লিখেছে সে-Alcestis । আদালতে তার বিচারের সময়ও সে মুখ খোলেনি একেবারেই। বিচারে কোন শাস্তি হয়নি তার। তাকে পাগল সাব্যস্ত করে তাকে মানসিক হাসপাতাল গ্রোভে পাঠানো হয়।

অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ নিয়েও এই হাসপাতালে চাকরি নিচ্ছে থিও, কারণ অ্যালিসিয়াকে নিয়ে অবসেসড সে । কিন্তু কেন? তার ধারনা সে পারবে অ্যালিসিয়াকে কথা বলাতে। আসলেই কি পারবে? সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হল, গ্রীক মিথলজির Alcestis সাথে অ্যালিসিয়ার মিলটা কোথায়?

ব্যক্তিগত রেটিংঃ ৪/৫

আমি বইটা পড়া শুরু করেছিলাম রাত এগারোটার দিকে, ইচ্ছে ছিল এক চ্যাপ্টার পড়ব। কিন্তু আমি ঘুমাতে গিয়েছি বইটা শেষ করে রাত পাঁচটার সময়। এক সেকেন্ডের জন্যও বোরিং লাগেনি। বইয়ের লাস্ট টুইস্টটা সত্যিই ধাক্কা দেওয়ার মত।

ভালো দিকটা তো গেল। এবার কথা বলা যাক যেসব জিনিস আমার ভালো লাগেনি সেগুলো নিয়ে। প্রথমত, বইয়ের সবগুলো চরিত্রই খুব stereotypical : ছোটবেলায় এবিউসড হওয়া সাইকোথেরাপিস্ট, রহস্যময়ী চিত্রশিল্পী উইথ “ড্যাডি ইস্যু”, লোথারিও ফ্যাশন ফটোগ্রাফার আর এডাল্টারাস নাট্যকর্মী। আন্ট লিডিয়া তো সরাসরি রবার্ট ব্লচের “সাইকো” থেকে উঠে এসেছে। তাছাড়া পাঠককে চমকে দেওয়ার জন্য অতি নাটকীয়তার ছড়াছড়ি আছে পুরো বই জুড়ে। বইয়ের দ্বিতীয় অংশে ক্রমাগত নতুন চরিত্র এড করা হয়েছে প্লটটাকে প্যাঁচানোর জন্য। গল্পের প্রয়োজনে এমন অনেক ঘটনা যোগ করা হয়েছে যা বাস্তবে ঘটার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। যেমন, থিওর সাথে তার থেরাপিস্ট রুথের সম্পর্কটা একেবারেই অবাস্তব মনে হয়। থিও তার স্ত্রী ক্যাথির পরকীয়ার কথা জানতে পেরে কোন
এপয়েন্টমেন্ট ছাড়াই হাজির হয় তার প্রাক্তন সাইকোথেরাপিস্টের বাসায়। রুথ কোন আপত্তি ছাড়াই একটা থেরাপি সেশন শুরু করতে রাজি হয়ে যায়। শুধু তাই নয়, সে থিওকে পরামর্শ দেয় ক্যাথির সাথে সম্পর্ক শেষ করে ফেলতে। সমস্যা হল, সাইকোথেরাপিস্টরা সাধারণত তাদের ক্লায়েন্টদের সাথে ব্যক্তিগত সম্পর্ক এড়িয়ে চলে। তাছাড়া তারা কোন ক্লায়েন্টকে বলে দেয় না তার কি সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিৎ। তারা আপনাকে কোন সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করতে পারে, এই সিদ্ধান্তের কারণে আপনার জীবনে কি পরিবর্তন আসবে সেটা নিয়ে আলোচনা করতে পারে। কিন্তু কখনও তারা আপনাকে বলবে না যে আপনার অমুক কাজটা করা উচিৎ। এরকম আরও অনেকগুলো ঘটনা আছে যেগুলো আমি লিখছি না স্পয়লার এড়ানোর জন্য।

এইসব সমস্যা থাকার পরেও বইটা বেশির ভাগ থ্রিলার প্রেমীরই ভালো লাগবে বলে আমার মনে হয়।।আমি ইংরেজি বইটা পড়েছি। তবে এখন বইটার বাংলা অনুবাদও প্রকাশিত হয়েছে।