সম্প্রতি চীনে সোয়াইন ফ্লুয়ের একটি নতুন স্ট্রেইন পাওয়া গেছে। চীনের বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, এই ভাইরাসটি প্যানডেমিকে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা আছে। করোনা ভাইরাসের কারণে সারা পৃথিবীর মানুষের জীবন চলমান দু;স্বপ্নে হয়ে উঠেছে, যা প্রথম সনাক্ত করা হয়েছিল চীনে। ২০০২ সালে সার্স ভাইরাসও প্রথম চীনে সনাক্ত করা হয়েছিল । ২০১৩ সালে চীনেই প্রথম সনাক্ত করা হয়েছিল অ্যাভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস (H7N9)। তাই এই প্রশ্ন তো আমাদের মনে জাগাই স্বাভাবিক যে, কেন চীনেই এত সংক্রামক রোগ দেখা দেয় বার বার?

প্রথম কারণ চীনের জনসংখ্যার ঘনত্ব। জনসংখ্যার ঘনত্বের দিক দিয়ে চীনের অবস্থান পৃথিবীতে দ্বিতীয়। দেশটিতে প্রতি বর্গ কিলোমিটারে গড়ে ২১৭১৭ জন মানুষ বাস করে ( যেখানে ম্যাস্কিকো জন সংখ্যার ঘনত্ব প্রতি বর্গ কিলোমিটারে মাত্র ৬৬ জন)। জনসংখ্যার ঘনত্ব এত বেশি বলেই চীনে যেকোনো সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়ে ঝড়ের গতিতে।

Visitors throng the Bund, Shanghai’s waterfront, on the second day of the “Golden Week” holiday on Oct. 2, 2018.    © Reuters

তাছাড়া চীনের পোলট্রি ফার্ম আর গবাদি পশুর খামার গুলো  স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরিচালিত হয় না। অল্প জায়গার মধ্য অনেক মুরগী বা পশু রাখার ফলে ভাইরাস ছড়ায় দ্রুত এবং এর মিউটেশনও ঘটে তাড়াতাড়ি।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হল চীনে কাঁচা বাজার গুলো। ওখানে মুরগি আর গবাদি পশুর পাশাপাশি বিক্রি করা হয় অনেক জীব জন্তু যা সাধারণত খায় না, যেমন বাদুর, গিরগিটি। এই ধরনের জীবজন্তুর থেকে অনেক নতুন ধরনের ভাইরাস মানুষ বা গবাদি পশু বা মুরগিতে চলে আসতে পারে।

চীনে ট্র্যাডিশনাল হিলিং সিস্টেম বেশ জনপ্রিয়, এই ধরনের চিকিৎসা প্রধানত ভেষজ ব্যবহার করে করা হয়। বেশির ভাগ সংক্রামক রোগের ক্ষেত্রেই এই পদ্ধতি কোন কাজে আসে না। এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতার অভাবে আক্রান্ত ব্যক্তিরা সংক্রমিত করে আরও অনেক মানুষকে।

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •